রোববার থেকে হামের টিকা দেবে সরকার
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় রোববার থেকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এরই মধ্যে ২১.৯ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোববার থেকে পুরো জেনারেশন কাভার হওয়া পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী বাচ্চাদের হামের টিকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি এপিআই এর অন্য টিকা কার্যক্রমও চলবে।
বুধবার (১ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানান, হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা গ্যাভি থেকে ২১.৯ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন পাওয়ার অনুমোদন পেয়েছি। আগামীকাল ও পরশুর মধ্যে এসব ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করছি।’
মন্ত্রী আরও জানান, ভ্যাকসিনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সিরিঞ্জও একসঙ্গে সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়নগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা বিতরণ করা হবে। দুই দিনের মধ্যেই সারাদেশের উপজেলা পর্যায়ে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘রোববার সকাল থেকে আমরা সারাদেশে ধাপে ধাপে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করবো। এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ের সব স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তারা স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে টিকাদান কার্যক্রমে অংশ নেবেন।’
মন্ত্রী জানান, করোনাকালে নেওয়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ঋণের একটি অংশ পুনর্বিন্যাস করে নতুনভাবে ভ্যাকসিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের অনুমোদনও পাওয়া গেছে।
হামের জটিলতা মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ভেনটিলেটর সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় ‘বাবল সিপ্যাপ’ প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী দাবি করে বলেন, ‘পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হলেও আমরা তা নিয়ন্ত্রণে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
এসময় স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।
